হাতীবান্ধায় ৫০ পরিবার অবরুদ্ধ

হাতীবান্ধায় ৫০ পরিবার অবরুদ্ধ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি.

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির ক্রোধের শিকার হয়ে ৫০টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের দালাল পাড়া এলাকা ও পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের ছিট জমগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ও নজরুল ইসলামের প্রতিবেশি। অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর পরিবার-পরিজন গত এক সপ্তাহ ধরে একরকম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ঐ পরিবারগুলো জানিয়েছেন, তাদের প্রতিবেশি নজরুল ইসলাম জমি সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটিতে দুই দুইটি বেড়া বসিয়ে তাদের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। রাস্তার দুইদিকে গভীর পুকুর ও বাঁশঝাড় থাকার কারণে কোনভাবেই বাড়ির বাহিরে আসতে পারছেন না তাঁরা। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও শিশুরা রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সাইকেল,ভ্যান,রিক্সা ও মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে ঢুকতে পারছেন না তাঁরা। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যহত হচ্ছে।
সরজমিনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৫০টি পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি বাঁশ ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরী দুইটি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর মধ্যে প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন বললেন, ‘তিস্তার বাধ হিসেবে তৈরী করা এই রাস্তাটি দিয়ে আমি গত ৪০ বছর ধরে যাতায়াত করে আসছি। আমার প্রতিবেশি নজরুল ইসলাম হঠাৎ রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন।
প্রায় ৫০টি পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র এই রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় আমরা একরকম অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। তিনি ঠিক কী কারণে রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন আমি জানি না।’ মসজিদের ইমাম প্রবীণ কবির হোসেন বললেন,‘ নজরুল ইসলাম রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে আমরা চলাচল করতে পারছি না। পরিবার-পরিজন নিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি।’ অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাস্তাটির প্রতিবন্ধকতা দ্রুত তুলে ফেলে পূর্বের ন্যায় চলাচলের উপযোগী করে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রাস্তার উপরে বেড়া দেওয়ার বিষয়ে নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি তাঁর নিজের জমির উপর বেড়া দিয়েছেন। কোন রাস্তার উপরে নয়। এই জমি তিনি বেলাল হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন।
ফকির পাড়া ইউপি’র ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য মফিজ উদ্দিন জানিয়েছেন,বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে গ্রাম্য সালিশ হয়েছে। আবারও তাঁর সালিশ করার কথা।
ফকির পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নূর ইসলাম মাস্টার জানিয়েছেন,বেশ কিছুদিন আগে এমন একটি অভিযোগ এসেছিল তার কাছে। তিনি বিষয়টি দেখবেন।

Share.

Comments are closed.