লালমনিরহাটে হত্যার হুমকির পর অবরুদ্ধ করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে

লালমনিরহাটে হত্যার হুমকির পর অবরুদ্ধ করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি.

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করে হত্যার হুমকির পর এবার তার বাড়ি যাওয়া রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সপরিবারে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘুম থেকে উঠে রাস্তা বন্ধ দেখতে পান তিনি। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাঁশের বেড়া দিয়ে তার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে পরিবার ও তার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ১৯ জানুয়ারি আদিতমারী থানায় দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সম্পাদক সালেকুজ্জামান প্রামানিকসহ ১২জনের বিরুদ্ধে জিডি করেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম (৬৭)।

জিডি ও অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ও তার ভাগ্নে বিএনপিকর্মী আসাদের মধ্যে পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধ হয়। মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বোনের অংশ বসতভিটার পাশে ভাগ্নে আসাদকে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান প্রামানিক নিজ বসতভিটায় জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধাকে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

এরই জের ধরে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা সালেকুজ্জামান প্রামানিক দলবল নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাকে পরিবারের সদস্যদের সামনে লাঞ্ছিত করেন। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এলে বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান প্রামানিক দ্রুত বসতভিটা খালি করে জমি বুঝিয়ে দিতে অশ্লীলভাষায় গালমন্দ করেন। নির্দেশ অমান্য করলে মুক্তিযোদ্ধাকে সপরিবারের হত্যা করে বসতভিটাহীন করে জমি দখলের হুমকি দেন। এতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম।

এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২জনের বিরুদ্ধে ১৯ জানুয়ারি রাতে আদিতমারী থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান প্রামানিকের নির্দেশে বিএনপি কর্মী আসাদ দলবল নিয়ে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাঁশের বেড়া দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে রাস্তা বন্ধ দেখে পুরো পরিবারের ১২ সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তারা। অবরুদ্ধ থাকায় ওই পরিবারের ৪ শিশু বিদ্যালয়েও যেতে পারেনি।

জমির অংশীদার দাবি করা বিএনপিকর্মী আসাদ বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান বলার পরেও জমি ছেড়ে না দেয়নি। তাই আমার জমির উপর আমি বেড়া দিয়েছি। তারা কোন পথে চলবেন সেটা তাদের বিষয়।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জিডি করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এবার আমার পুরো পরিবারকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। আগে হুমকি দেওয়া বসতভিটা শূন্য করতে ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা লোকজন দিয়ে রাস্তায় বেড়া দিয়েছেন। অবরুদ্ধ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ওসিকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা লিখিত অভিযোগ চেয়েছেন। জীবন বাজি রেখে পরাধীন দেশকে স্বাধীন করেছি। আজ সেই স্বাধীন দেশে অবরুদ্ধ থাকা খুবই লজ্জার। তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উপজেলা বিএনপি সম্পাদক দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান প্রামানিককে তার ব্যবহৃত মোবাইল কয়েক দফায় ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share.

Comments are closed.