ভারতে বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ৬ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতে নতুন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিপক্ষে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় এখন পর্যন্ত কয়েকশ মানুষকে আটক করা হয়েছে।

রাজধানী দিল্লি, উত্তর প্রদেশ এবং কর্নাটকের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বেশ কিছু স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কিন্তু এসব আদেশ অমান্য করেও রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভকারীরা।

দিল্লির বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে ভারতের সংসদের উভয়কক্ষে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়। পরে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর তা আইনে পরিণত হয়। তারপরেই এই আইনের বিরুদ্ধে প্রথম আসামে বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভ ও সহিংসতায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে। আসামের পর ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গত কয়েকদিন ধরেই নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে।

নতুন এই আইন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের আগে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে যেসব অমুসলিম ‘ধর্মীয় নিপীড়নের’ শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা এবার ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ ও বিজেপি সরকারের সমালোচক রামাচান্দ গুহ রয়েছেন। দিল্লির সঙ্গে জয়পুরকে সংযুক্ত করা মহাসড়কে পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং রাজধানীতে প্রবেশ করা সব গাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এর ফলে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে। দিল্লির বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ভারতের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সে কারণেই এই আইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে মানুষ। কিন্তু হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার বলছে, এটি ধর্মীয় সহিংসতা থেকে পার্শ্ববর্তী দেশের হিন্দুদের রক্ষা করবে। অপরদিকে, সমালোচকদের মতে এটি ভারতের ২০ কোটির বেশি মুসলিমদের কোনঠাসা করার হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা।

উত্তর প্রদেশের পুলিশ প্রধান ও.পি. সিং সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভ কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। পুলিশের নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, এক জায়গায় চারজনের বেশি মানুষ একত্রিত হতে পারবে না। পুলিশের দাবি, সহিংসতা এড়াতে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তারা।

এছাড়া র‍্যালি, পদযাত্রা বা অন্য যে কোনো ধরণের বিক্ষোভ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে চেন্নাই পুলিশ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তরপ্রদেশ, ব্যাঙ্গালুর, মুম্বাই ও দিল্লিতে পূর্ব পরিকল্পনামাফিক বিক্ষোভ চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share.

Comments are closed.