বিয়ের পিঁড়িতে বসার বদলে চিতার আগুনে শুইবে প্রনব!

পাগলা হাসান: পাত্রী পছন্দ হয়েছে। ছুটি পেলে বাড়িতে আসবে প্রনব। আর বাড়িতে আসলে পাত্রী পক্ষের লোকজন দেখতে আসবে তাকে। পাত্রী পক্ষের লোকজন পছন্দ করলে হবে আর্শীবাদ তারপর বিয়ে। তবে ছুটি পেলেন প্রনব বিয়ের জন্য নয়, সারা জীবনের জন্য। আর সেই ছুটি নিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বিয়ের মন্ডবে আগুন জ্বলার বদলে নিজেই চিতার আগুনে জ্বলবে প্রনব।

lalmonirhat-police-death-news-13-11-2016-pic-2

প্রনব লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিনের উত্তর ঘনশ্যাম গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মহানন্দ রায়ের ও পূর্নিমা রানীর ছোট ছেলে। সে পুলিশে চাকুরী করে। প্রনব কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার থানায় পুলিশে (কনষ্টবল) কর্মরত ছিলেন। প্রনব শনিবার কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইন্সের কয়েকজন সদস্যসহ (খুলনা মেট্রো উ-১১-০০৯২) ভাড়া করা একটি ট্রাকে পোশাকসহ অন্যান্য মালামাল আনতে ঢাকা হেড ওকায়াটার্সে যাচ্ছিল। এ সময় শনিবার রাত দু’টার দিকে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে শেরপুরের মহিপুর এলাকায় ওই ট্রাকটির সাথে বগুড়াগামী সার বোঝাই (ঢাকা মেট্রো-১৪-৪৭৪৫) একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এতে ঘটনাস্থলে প্রনবসহ মোট ৭জন ঘটনাস্থলে মারা যায়। এদের মধ্যে ৫জন পুলিশ।

lalmonirhat-police-death-news-13-11-2016-pic-3

রবিবার বিকেলে নিহত পুলিশ সদস্য প্রনব চন্দ্র রায়ের বাড়িতে গিয়ে জানা যায, কিছুদিন আগে বাবা মুক্তিযোদ্ধা মহানন্দ রায় আর মা পূর্নিমা রানী পার্শ্ববর্তী হাতীবান্ধা থানায় ছেলের জন্য মেয়ে পছন্দ করে এসেছেন। সে অনুযায়ী প্রনবের সাথে পরিবারের যোগাযোগ চলছিল। আর তাই তিনি বাবা-মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করবেন বলেও ফোনে জানিয়ে দেন। এজন্য শুধু তার ছুটির অপেক্ষায় ছিল পরিবার। কারণ ছুটি পেলেই বাড়িতে ফিরে বিয়ে করে নববধূকে ঘরে তোলার কথা ছিল প্রনবের। কিন্তু তার আগেই না ফেরার দেশে যেতে হল প্রনবকে। আর তার এই চলে যাওয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারের মাঝে।

lalmonirhat-police-death-news-13-11-2016-pic-4

নিহত প্রনবের মা পূর্নিমা রানী বলেন, শনিবার ঢাকা যাওয়ার আগে ছেলে আমার সাথে ফোনে কথা বলেছে। বলল যে- মা তুমি কোন চিন্তা করিও না। আমি ঢাকা থেকে ফিরে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসে তোমার পছন্দ করা মেয়েকেই বিয়ে করবে। কিন্তু আমার সেই প্রনব কিনা পৃথিবী থেকে ছুটি নিয়ে গেল। বলতে বলতে ডুকরে কেঁদে উঠেন পূর্ণিমা রানী।
এ বিষয়ে প্রনব চন্দ্র রায়ের বাবা মহানন্দ রায় জানান, আমরা খবর পেয়েছি তাই প্রনবের লাশ আনতে আমার বড় ছেলেকে পাঠিয়েছি। লাশ বাসায় আসলে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কখন তার লাশ দাহ করা হবে। তবে সন্ধ্যায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ আসেনি বলে জানান তিনি।

lalmonirhat-police-death-news-13-11-2016-pic-5

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন, মরদেহ আনার ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। নিহত পুলিশ সদস্য প্রনবের লাশ গাইবান্ধার পলাশবাড়ি পর্যন্ত এসেছি বলে একটু আগে খবর পেয়েছি। লাশ রাতেই আসলে থাকে রাষ্ট্রয় সম্মানা জানানো হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার।

Share.

Comments are closed.