পাটগ্রামে ঠিকাদারের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এলাকাবাসী

পাটগ্রামে ঠিকাদারের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এলাকাবাসী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি.

পাটগ্রাম পৌরসভা মানেই ভাঙ্গা-গড়া আর অনিয়ম-দুর্নীতির খেলা, এমন বাস্তবতায় পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে ১কোটি ৩লাখ টাকা ব্যয়ে চলছে রাস্তার সংস্কার কাজ। যা নিঃসন্দেহে ক্ষমার অযোগ্য এবং বড় অপরাধ।নিম্নমানের অচল ইট দিয়ে খোয়া বানিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে চলতে থাকা নিম্নমানের কাজটি এলাকাবাসীর বিবেক জাগ্রত বাধার মুখে বন্ধ হয়ে যায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌরসভার নির্মাণাধীন রাস্তার কাজ। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারনেই রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ পৌরসভার বাসিন্দাদের। তবে পাটগ্রাম পৌর মেয়র শমসের আলী নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এমন কাজের সাথে যুক্ত থেকে কমিশন বাণিজ্যের মহানায়ক পৌর কর্তাদের মাঝে হতাশার কালো ছায়া নেমে এসেছে এমন মন্তব্য অনেকের।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, আইইউডিপি-২ প্রকল্পে অধীনে পাটগ্রাম পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৩টি প্যাকেজে গত এপ্রিলে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর একটি প্যাকেজে ছিল রাবার ড্যাম থেকে সুইচ গেটের পশ্চিম পাশ পর্যন্ত ৮৫২ মিটার সড়ক সংস্কার। ৯৮ কোটি ২১ লক্ষ ৫০ হাজার ৫৬৫ টাকা চুক্তি মুল্যে কাজ পায় রংপুরের শেখ ফুল মোহাম্মদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাফিন এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই স্থানীয়রা নিম্নমানের ইট, বালু, খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ করে আসছিল। এর মধ্যে বুধবার সকালে স্থানীয়রা দেখতে পান খুবই নিম্নমানের ইট ট্রাকে করে এনে রাস্তা সংস্কারের জন্য ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তারা তাৎক্ষণিক ভাবে এর প্রতিবাদ করেন। এরপরও বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ শুরুর একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন উপস্থিত স্থানীয় লোকজন।
স্থানীয় পৌর বাসিন্দা মনোয়ার, আজাদ, জিয়ারুলসহ অনেকেই জানান, অত্যন্ত নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে দেখে আমরা এর প্রদিবাদ স্বরূপ সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। দিনে দুপুরে ঠিকাদার আর ইঞ্জিনিয়ারের যোগসাজোসে এমন দুর্নীতি হচ্ছে বলেও জানান তারা।
পাটগ্রাম পৌর এলাকার ট্রাক চালক হোসেন আলী বলেন, দীর্ঘ ২০ বছরে পাটগ্রাম পৌরসভায় অর্জন বলতে কিছুই নেই, অযোগ্য নেতৃত্ব আর দুর্নীতি খেয়ে ফেলেছে পৌরসভার সকল উন্নতি ও উন্নয়নকে। চোখের সামনে এমন জঘন্যতম অপরাধ প্রতিবাদ করারও কেউ নেই। বদলে যাওয়া সময়ের বাস্তবতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার টেকসই উন্নয়নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে বড় বাধা অযোগ্য নেতৃত্ব। তাই আর দেরি নয় এখানেই সময় নতুনের জয়োগানের, তাই পরিবর্তনের বিকল্প নাই। আমরা নেতা নয়, পাটগ্রাম পৌরসভার উন্নয়নের সার্থে নীতির পরিবর্তন চাই।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারের ব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমি এবং পৌরসভার ওয়ার্ক এসিসট্যান্ট কিছু সময়ের জন্য না থাকার সুযোগে ভাটার মালিক এই নিম্নমানের ইট পাঠিয়েছিল। আমরা ইটগুলো ফেরত নিতে বলেছি। আজকের মধ্যেই হয়তো তারা এগুলোনিয়ে যাবে। তবে কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সিডিউল অনুযায়ীই রাস্তার কাজ হচ্ছে।
পাটগ্রাম পৌর মেয়র শমসের আলী নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কথা স্বীকার করে বলেন, নিম্নমানের ইটের কথা শুনে আমিই স্থানীয়দের কাজ বন্ধ করে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তা তারা করেননি। ঠিকাদারের এখানে কোনো দোষ নেই। মুলত পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার জরুরী কাজে ঢাকায় থাকার সুযোগ নিয়ে ভাটার মালিক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আর যেসব ইট ব্যবহার করা হয়েছে তা সরিয়ে নিতেও বলা হয়েছে ঠিকাদারকে।
তবে এ ব্যাপারে জানতে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Share.

Comments are closed.