জাহিদ কি পারবে সুস্থ হয়ে পরিক্ষা দিতে!

পাগলা হাসান, হাতীবান্ধাঃ
রংপুর কারমাইকেল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার অনার্স ফাইনাল পরিক্ষা দিবে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ(২৫)। ইতোমধ্যে পরিক্ষার ফরম পুরন করা হয়েছে। এখন অপেক্ষায় শুধু পরিক্ষা দোওয়ার। কিন্তু অনার্স ফাইনাল পরিক্ষা শুরুর আগে জীবনের সবচয়ে বড় পরিক্ষা শুরু হয়েছে জাহিদের। আর এই পরিক্ষা হল জীবন বাচানোর। জাহিদ ব্রেইন টিউমার রোগে আক্রান্ত। এক মাসের মধ্যে অপারেশন করলে তার জন্য খুব ভালো হয়। নতুবা তার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। অর্থাভাবে সময়মত অপারেশন করাতে না পারার দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে জাহিদ। তবে সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু সাহায্য করে তাহলে হয়তো জীবন বাচাতে পারে জাদিহ।
জাহিদ লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের চর সিন্দুর্না গ্রামের বৃদ্ধ বাবা রোস্তম আলী(৮০) ও মা জামেলা খাতুনের ছেলে। সে ছয় ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট জাহিদ। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। ভাইয়েরা যে যার মত আলাদা আলাদা বসবাস করেন। মা-বাবাকে নিয়ে জাহিদের পরিবার। বাড়ি ভিটে চাষাবাদের যতটুকুন জমি ছিলো তাও আবার তিস্তার কড়াল গ্রাসে বিলিন হয়ে গেছে।
জাহিদ জানায়, এ বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে একটু একটু করে মাথা ব্যাথা শুরু হয়। ব্যাথা হলেই ঔষুধ খায় ঠিকও হয়ে যায়। কিন্তু অক্টোবরের দিকে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা দেখা দেয়। তাই ৯ অক্টোবর রংপুর মেডিকেল কলেজের নিউরো সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমের সরনাপন্ন হলে তিনি বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরিক্ষা করতে দেয়। পরিক্ষা নিরিক্ষার কাগজ পত্র তার কাছে নিয়ে গেলে তিনি বলেন আমি ব্রেইন টিউমার রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাই আমাকে ১ মাসের মধ্যে অপারেশন করার জন্য পরামর্শ দেন। তার জন্য দরকার প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ্য টাকা। কিন্তু গরীব বাবা-মায়ের সন্তান হওয়ায় আমার একার পক্ষে অপারেশনের এত টাকা যোগাড় করা সম্ভব না।
জাহিদের বৃদ্ধ বাবা রোস্তম আলী বলেন, আমার তেমন কিছু নাই যে বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারি। আপনারাই পারেন আমার ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিতে।
এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের নিউরো সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমের জানান, জাহিদের ব্রেইন টিউমারটি এক মাসের মধ্যে অপারেশন করলে তার জন্য খুব ভালো হয়। নতুবা তার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

Share.

Comments are closed.