গোবিন্দগঞ্জে নিরাপত্তাহীনতায় সাঁওতালপল্লী!

বিশেষ প্রতিনিধি: রংপুর চিনিকলের আওতাধীন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে সাওতালদের উচ্ছেদের সময় হামলা বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগ এবং লুটপাটের যে ঘটনা ঘটেছে তার আতঙ্ক এখনও কাটেনি। চলতি বছর ছোট বড় কয়েক দফা পুলিশ-চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও আদিবাসীদের (সাঁওতাল) মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাঁওতালপল্লী।

15045728_1138219482935164_934087384_n

বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া আদিবাসীদের মধ্যে এখনও আতঙ্ক কাটেনি। চিনিকল কর্তৃপক্ষ পুলিশ পাহাড়ায় খামার এলাকার জমিতে হাল চাষ করছে। এছাড়া তাঁর কাটার বেড়া টানানো হয়েছে খামার এলাকায়।

রবিবার (০৬ নভেম্বর) সকালে আদিবাসী পল্লীতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুনরায় ত্রিমূখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ২ জন নিহত এবং ৯ পুলিশসহ উভয়পক্ষের ৪০ জন আহত হন। ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

file

নিহতরা হলেন, দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার চান্দুপর গ্রামের মৃত জ্যেঠা মাদ্রির ছেলে মঙ্গল মাদ্রি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্যামল হেমভ্রম।

এদিকে এ ঘটনার পর রবিবার রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে সাড়ে ৩’শ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) দীজেন টুটু, চরণ সরেন, বিমল কিশকু ও মাঝিয়া হেমভ্রম নামে চার আদিবাসীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার মানুষ। ছেলে মেয়েরা যেতে পারছে না স্কুল-কলেজে, বয়স্করা হাটে-বাজারে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না।

15045589_1138219662935146_1514454676_n

মেরিনা সরেন (২০) নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, তার বাড়ি থেকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর গ্রামে। বাড়ি থেকেই তাকে নিয়মিত কলেজে যেতে হয়। ওই সংঘর্ষের পর স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানোর ফলে তিনি কলেজে যাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দৈনিক জাগরণকে জানান, মিল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশে নির্মমভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর তাদের সম্প্রদায়ের বেশকিছু লোক এলাকা ত্যাগ করে বিভিন্ন স্থানে চলে যান। তারপরও স্থানীয় লোকজন তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে গরু-ছাগল লুটপাট করে এবং ভয়ভীতি দেখায়।

এছাড়া সংঘর্ষের দিনই রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ পুলিশ-র‌্যাব নিয়ে ইক্ষু খামার এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সাঁওতালদের অস্থায়ী ঘরগুলো আগুনে পুড়িয়ে ইক্ষু খামার দখলে নেয়।

এবিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার দৈনিক জাগরণকে জানান, সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি উদ্ধারসহ রংপুর চিনিকলের সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হান্নান দৈনিক জাগরণকে জানান, চিনি কলের আওতাধীন উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের দখল হয়ে যাওয়া এক হাজার একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। সাওতাল পরিবারগুলো এখন কর্মহীন হয়ে পড়ায় নানাভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এদিকে এ সংঘর্ষের পর থেকে আদিবাসীর ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানান ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে।

file

তিনি জানান, অধিগ্রহণের সময় জমির মালিকদের সঙ্গে চিনিকল কর্তৃপক্ষের চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ওইসব জমিতে আখ ছাড়া অন্য ফসলের চাষ হলে খামারের জমি প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু কিছুদিন ধরে ওইসব জমিতে ধান ও তামাক চাষ করা হচ্ছে। সে কারণে এ দখলের ঘটনা ঘটে।

রংপুর চিনিকলেরর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়াল দৈনিক জাগরণকে জানান, ১৯৬২ অধিগ্রহণের সময় চুক্তিনামা ছিল চিনিকল বা খামার বন্ধ হলে সেক্ষেত্রে ওইসব জমি সরকারের কাছে চলে যাবে। অথচ এলকার কতিপয় সুবিধাবাদী ব্যক্তির উস্কানিতে সাঁওতালরা অবৈধভাবে চিনিকলের জমি দখল করে।

Share.

Comments are closed.