গাছের প্রতি এ কেমন নিষ্ঠুরতা?

নওরীর ওশিন ।।

মানুষ ও  পরিবেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু গাছ । কিন্তু মানুষের নির্মম অত্যাচার থেকে রক্ষা পাচ্ছে না এই উপকারী বন্ধুটি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব জায়গায় দেখা যায় গাছে পেরেক বা তারকাটা ঠুঁকে সেঁটে দেওয়া হয় বিজ্ঞাপন, পোস্টার ব্যানার ইত্যাদি।

গাছে বিজ্ঞাপনটিউটর দিচ্ছি/নিচ্ছি,অফিস বদল, বাসা বদল, ভর্তি চলছে, সহি শুদ্ধভাবে আরবি পড়াইতে চাই, সিকিউরিটি সার্ভিস দিচ্ছি, পড়াইতে চাই, ক্লাসরুম রেন্ট, স্পোকেন/রাইটিং, হাতের লেখা সুন্দর, ছাত্রী হোস্টেল, ড্রাইভিং শিখুন ইত্যাদি লেখা নানা রকম বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন পেরেক বা তারকাটা দিয়ে গেঁথে দেওয়া হচ্ছে গাছের গায়ে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিজ্ঞাপন যদি হয় এমন নির্মমতার মাধ্যমে তাহলে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য ? শুধু তাই নয়। সম্প্রতি ধানমণ্ডিতে একটি নামকরা স্কুলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ও চোখে পড়ল গাছে পেরেক ঠুকে লাগানো “নো পার্কিং ইন ফ্রন্ট অব দ্য গেইট” লেখা সাইনবোর্ড।গাছে বিজ্ঞাপন

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু অনেক আগেই প্রমাণ করেছেন যে গাছেদের প্রাণ আছে, অনুভূতিও আছে। আমরাও এই কথা জেনে আসছি শৈশব থেকে। তাই গাছকে অনুভূতিহীন জড় ভাবার কোনো অবকাশই নেই। বরং অনুভূতিহীন বলা যায় তাদের যারা এই নিষ্পাপ, নিরীহ, উপকারী বন্ধুর গায়ে পেরেক, তারকাটা ঠুঁকে ক্ষতবিক্ষত করে সেঁটে দিচ্ছে তাদের ব্যাবসায়িক বিজ্ঞাপন। আর আমরা যারা প্রতিদিন চলার পথে এসব নির্মমতা দেখেই যাচ্ছি, দেখেই যাচ্ছি। কোনো প্রতিবাদের ভাষাই যেন আমাদের জানা নেই বা প্রতিবাদ করার কোনো প্রয়োজনই নেই। যেন গাছের প্রতি আমাদের নেই কোনো দায়িত্ব, নেই কোনো মমতা। গাছের যে প্রাণ আছে তাই হয়তো আমরা ভুলে গেছি। তা না হলে আমরা চাইলেই প্রতিবাদ করতে পারি, বন্ধ করতে পারি এই নিষ্ঠুরতা।

গাছে বিজ্ঞাপনআর নগর পিতাদের বলছি। আপনারা তো শহরটাকে সুন্দর করার জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত।কাজও করে যাচ্ছেন অনেক।কিন্তু একটু তাকান আপনার চারপাশে। শুনতে চেষ্টা করুন গাছেদের কান্না। গাছই যদি না থাকে তাহলে কি করে রক্ষা করবেন এই শহরের পরিবেশ? কোথায় জমা করবেন প্রতিনিয়ত উৎপাদিত এত এত কার্বন ডাই অক্সাইড? আর কোথায়ই বা পাবেন নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন? দেশ জুড়ে প্রতিনিয়ত চলছে গাছ কেটে, বনায়ন ধ্বংস করে অপরিকল্পিত নগরায়ন ,অপরিকল্পিত উন্নয়ন। ঢাকা শহরে গাছের পরিমাণ এমনিতেই অনেক কম। যে কয়েকটা গাছ আছে তাদের সঙ্গেও যদি এমন নিষ্ঠুর আচরণ করা হয় তাহলে এই গাছেরাই বা কতোটুকু ভালো থাকবে আর কতটুকু বাতাসই বা পরিশুদ্ধ করবে ? আর কতোটুকুই বা ভালো থাকবে শহরের পরিবেশ।

গাছে বিজ্ঞাপনসিটি কর্পোরেশনের একটু সতর্কতাই পারে নিরীহ গাছগুলোকে এই অমানবিক অত্যাচার থেকে মুক্তি দিতে। মুক্তির পথ খুব দূরে নয়। গাছের গায়ে পেরেক ঠুঁকে যে বিজ্ঞাপন গুলো সাঁটা হয় তাতেই দেওয়া থাকে এই অপকর্মের মূল হোতাদের ফোন নম্বর । এই সব ফোন নম্বর থেকেই সহজেই অপরাধীদের শনাক্ত করা যেতে পারে। তারপর  এসব অকৃতজ্ঞ ,নির্বোধদের পর্যায়ক্রমে বিচারের আওতায় আনতে পারলে অনেকটাই কমে যাবে অসহায় গাছের ওপর নিষ্ঠুর অত্যাচার। সুস্থভাবে বেঁচে থাকুক গাছেরা, সুন্দর ও সমৃদ্ধ করুক জীবন ও পরিবেশকে।

সূত্র: পূর্ব-পশ্চিম বিডি নিউজ

Share.

Comments are closed.