গঠনতন্ত্র অনুসারে কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান

goldenage.com

পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরকে মনোনয়ন দিয়ে গেছেন, তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনিই দলের চেয়ারম্যান বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথসভার মাঝে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় এ কথা জানান তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, বিভিন্ন কুৎসা রটানো হচ্ছে। জাতীয় পার্টি গঠতন্ত্র মোতাবেক চলে, এর বাইরে কারও কিছু করা সম্ভব না। একজন সিনিয়র সদস্য আরেকজনকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন—এটি গঠনতন্ত্র বিরোধী। চেয়ারম্যান (এরশাদ) জীবদ্দশায় যেহেতু বলে গেছেন তাই জিএম কাদেরই দলের চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অপরাধ। জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা ২০ উপধারা ১(ক)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে—জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান যেকোন পদে যেকোন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারবেন, যেকোন ব্যক্তিকে অপপসারণ করতে পারবেন এবং যেকোন ব্যক্তিকে তার নিজস্থলে স্থলাভিষিক্ত করতে পারবেন। তার মানে চেয়ারম্যান তার নিজ অবস্থানে যে কাউকে চেয়ারম্যান করতে পারবেন।

ফিরোজ রশীদ আরও বলেন, গত ১৭ আগস্ট প্রেসিডিয়াম হয়েছিল, সেখানে ৩৪ জনের মধ্যে ২৬ জন বক্তব্য রেখেছিলেন। তারা বলেছিলেন, পার্টির যিনি চেয়ারম্যান তিনি হবেন পার্লামেন্টের বিরোধী দলের নেতা। সেই রেজ্যুলেশনের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যদের ডেকেছিলাম, সেখানে ১৫ জন সংসদ সদস্য জিএম কাদেরকে মনোনয়ন দিয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। সে অনুযায়ী আমরা স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদ পার্লামেন্টারি মিটিং ডাকেননি। পার্লামেন্টারি মিটিং ডাকতে হবে সেটা কোথাও নেই। যারা বলছেন মিটিং ডাকা হয়নি, তারা গঠনতন্ত্রবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। গোটা জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা এটি বলেছেন। সারাদেশ থেকে সব জেলা থেকে এরশাদ যাকে তার মৃত্যুর পর স্থলাভিষিক্ত করে গেছেন তিনিই হবেন চেয়ারম্যান, তার পক্ষে গোটা জাতীয় পার্টি আছে।

প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, আজ সব পত্রিকার শিরোনাম জাতীয় পার্টি। এটা আমাদের জন্য সুখবর। তার মানে জাতীয় পার্টি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দল, সেই সাথে সারাদেশের নেতাকর্মী প্রয়াত চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাত্ম আছেন। সব দলের একজন কর্ণধার থাকেন, যাকে কেন্দ্র করে দল সামনের দিকে যায়। এরশাদ মানেই জাতীয় পার্টি, তাই মৃত্যুর আগে তিনি যে নির্দেশ দিয়েছেন, স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী জিএম কাদের তার অবর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, গতকাল যারা দলের জন্মলগ্ন থেকে আছে তারা একটি ঘোষণা দিয়েছেন। দেশ চলে সংবিধানের ওপর, কিন্তু রাজনৈতিক দল চলে গঠনতন্ত্রের ওপর। কাল যে ঘটনা ঘটেছে, যিনি একজনকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন তিনি গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছেন। আর যাকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন তিনি যেহেতু প্রতিবাদ করেননি, তিনিও গঠনতন্ত্রের সীমারেখা অতিক্রম করছেন।

মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না কেন—জানতে চাইলে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, চারদিন আগে জিএম কাদেরকে বিরোধী দলীয় নেতা করে স্পিকারের কাছে যে চিঠি গেছে, তার প্রথম স্বাক্ষরটি করেছেন আমাদের মহাসচিব। প্রথম কাদের ভাইকে চেয়ারম্যান করার যে ঘোষণা সেটিও স্বাক্ষর করেছেন তিনি। স্পিকার আমাদের চিঠি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তাদের (রওশন) পক্ষে কেউ স্বাক্ষর দিতে পারেননি।

সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান ট্যাপা, সুনীল শুভ রায়, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Share.

Comments are closed.