কিডনি দেব,কেউ টাকা দেবেন?

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ কলেজ শিক্ষার্থী মোজাহারুল ইসলামের (১৯) দুটি কিডনীই অকেজো হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন দ্রæত অন্তত একটি কিডনী প্রতিস্থাপন করতে হবে। অসুস্থ ভাইকে নিজের একটি কিডনী দিতে চান বড় বোন। কিন্তু ভারতে তা প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন প্রায় আট লাখ টাকা। যা কোনো ভাবেই জোগাড় করতে পারছে না দরিদ্র পরিবার।

মোজাহারুলের বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রæতিধর গ্রামে। সে ওই গ্রামের মমেদ আলীর ছেলে।

জানা গেছে, চলতি বছর অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল মোজাহারুল। তবে পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে হয়তো ভেবেছিল চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার পর জানা গেছে তার দুটি কিডনীই অকেজো হয়ে পড়েছে। অথচ ওই কলেজ শিক্ষার্থী আশা করেছিল পাশ করে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। কিন্তু তার সে আশা হয়তো আর পূরণ হবে না। বর্তমানে সে রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি আছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মোজাহারুলের বাবা ক্ষুদ্র কৃষক। সামান্য যে জমিজমা আছে তা চাষাবাদ করেই কোনো রকমে চলে সংসার। ছয় ভাইবোনের মধ্যে পঞ্চম সন্তানের দুটি কিডনী অকেজো হয়েছে জানার পর থেকেই তার যেন নাওয়া-খাওয়া নেই। এরপরও অনেক কষ্টে প্রথমে রংপুরে এবং গত মে মাসে ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলেন ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপালো হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মোজাহারুলকে বাঁচাতে কমপক্ষে জরুরি ভিত্তিতে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। যেখানে কিডনী ছাড়া শুধুমাত্র প্রতিস্থাপনের জন্যই দরকার প্রায় আট লাখ টাকা। অবশ্য তার বড়বোন আয়শা খাতুন (২১) জানান, তিনি তার একটি কিডনী ছোট ভাইকে দিতে চান।
মোজাহারুলের বাবা মমেদ আলী বলেন, ‘আমার মেয়ে কিডনী দিতে চাচ্ছে কিন্তু তা প্রতিস্থাপনের খরচ বাবদ আট লাখ টাকা জোগাড়ের সামর্থ্য আমার নেই। তাই এখন মানুষের সাহায্য ছাড়া আমার সন্তান আমার সামনে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে’।
অসুস্থ কলেজ শিক্ষার্থী মোজাহারুল বলেন, ‘আমি বাঁচতে চাই। লেখাপড়া করে বাবা-মাকে সাহায্য করতে চাই। আমাকে আপনারা বাঁচান’।

অসুস্থ শিক্ষার্থী মোজাহারুলকে সাহায্য পাঠানো যাবে বিকাশ নম্বর-০১৭৩৭৯৯৭৮৯৩ এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ শাখার রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৯১৭৫ সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ।

Share.

Comments are closed.