করোনা ক্রাইসিসঃ রাস্তায় পড়ে থাকা তরল দুধ হাত দিয়ে তুলে খাবার চেষ্টা

goldenage.com

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের চিত্রকর্মে মানুষ ডাস্টবিনে কাকের সঙ্গে খাবার খুঁজতে থাকা এক নারীকে দেখেছিল। এটি ছিল পঞ্চাশের মন্বন্তরের দৃশ্য। সেই চিত্র যেন বাস্তব হয়ে দেখা দিল একবিংশ শতাব্দীতে। ভারতের আগ্রার এক ঘটনা করোনা মহামারিতে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করলো। আগ্রার রাস্তায় দেখা গেলো পেটের ক্ষুধা মেটাতে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে মানুষ আর কুকুর। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তায় ছড়িয়ে পড়া দুধ খাচ্ছে একদল কুকুর আর অন্য পাশে এক লোক হাত দিয়ে মাটির হাড়িতে দুধ তুলছেন। জানা যায়, তাজমহল থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে আগ্রার রাম বাঘ চৌহারার রাস্তায় একটি দুধের কন্টেইনার উল্টে পড়ে যায়। দুধের নহর বয়ে যায় রাস্তায়। ওই দুধ খেতে দেখা যায় একদল কুকুরকে, একটু দূরেই এক দারিদ্র ক্লিষ্ট ব্যক্তি হাত দিয়ে যতখানি পারছিলেন দুধ তুলতে থাকেন হাড়িতে।

এই রকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ভাইরাল হয়েছে।

গত মার্চে ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার তা বাড়ানো হয় ৩ মে পর্যন্ত। করোনা সংক্রমণে ভারত সরকারের এমন সিদ্ধান্তে সংকটের মুখে পড়ে লাখ লাখ দারিদ্র আর ক্ষুধার্ত মানুষ। কোভিড-১৯ রোগ প্রথম শনাক্ত হওয়ার প্রায় দুই মাস পর লকডাউন করে ভারত। ক্ষুধার ভয়ে গত মাসে কয়েক হাজার অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবার গ্রামে ফিরে যায়, এমনকি পায়ে হেঁটে।

যদিও কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা দেয়, সরাসরি নগদ অর্থ সাহায্য ও খাবার সরবরাহ করা হবে ৮০ কোটি মানুষকে। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে বেশির ভাগই জানায়, তাদের কাছে এ ধরনের সাহায্য পৌঁছায়নি এবং যারা পেয়েছেন তা অপ্রতুল। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) গত সপ্তাহে জানায়, এই সংকটে ৪০ কোটি খেঁটে খাওয়া ভারতীয়রা আরো দারিদ্রের ঝুঁকিতে। শুধু তারাই নয়, পুরো ভারতে অর্থনীতির চাকা ছয় বছরে সবচেয়ে ধীর হয়ে গেছে। বেকারত্বর হারও ব্যাপকভাবে বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

Share.

Comments are closed.