ইতিহাস গড়তে পারেনি আমেরিকা

॥ পীর হাবিবুর রহমান ॥

ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন যদি জয়ী হতেন, তাহলে তিনিই হতেন বিশ্বের সবচে ক্ষমতাধর, আধুনিক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আমেরিকার প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট। এতে মার্কিন নাগরিকরাও নতুন ইতিহাস সৃষ্টির গৌরবের বরমাল্য পরতেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেটি পারেনি। যে রাষ্ট্র নারীর ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার, নারী স্বাধীনতার আলো ছড়ায় বিশ্বজুড়ে সেই দেশ একজন মহিলাকে যোগ্যতা থাকার পরও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না করার মধ্য দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে চিন্তা ও মনের দুয়ারে তারা এতটা উদায় নয়।

তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোও যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নারীর হাতে স্বতস্ফূর্তভাবে ক্ষমতা অর্পণ করতে পারে সেখানে আমেরিকার মতো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত মুক্তচিন্তার দেশ তা পারেনি। শুধু তাই নয়; হিলারিকে পরাজিত করেছে তারা এমন এক রিপাবলিকান প্রার্থীর সঙ্গে যিনি আয়কর ফাঁকির আভিযোগ নিয়ে ভোটযুদ্ধে অংশ নেয় । যিনি বর্ণবাদী হিসেবে নিজেকে উন্মোচিত করে বির্তকের জন্ম দিয়েছেন। যিনি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তার আচরণে রিপাবলিকান দলের অভিজাতরা সরে গেলেও সফল হয়েছেন মার্কিন নাগরিকদের ঘুমন্ত বর্ণবাদী চেতনাকে জাগ্রত করে।

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে, দুনিয়া জুড়ে তারা যতই আধুনিক, মুক্তচিন্তার আলোর বাতি নিয়ে ফেরি করুক না কেন, ভিতরে তারা এতটাই রক্ষণশীল যে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সুযোগটি রুখে দিয়েছে। পশ্চিমা দুনিয়ার দেশে দেশে তো বটের তৃতীয় বিশ্ব এমনকি এই উপমহাদেশেও মানুষ যেখানে শিক্ষার স্বর্ণ শিখরে পৌঁছাতে পারেনি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পরেনি, পারেনি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে। সেখানেও বছরের পর বছর নারীদের হাতে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব দিতে কার্পণ্য করেনি।

বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী সেই কবে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনায়ক হয়েছেন। শ্রীলংকায় চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা প্রেসিডেন্টই হননি, শ্রীমাভুবন্দরনায়েকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। সেনাশাসন ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে ক্ষতবিক্ষত পাকিস্তানেও বেনজীর ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৩ দফা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। এখনো বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, সংসদের বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ ও দৃশ্যমান শক্তিশালী বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বে খালেদা জিয়া মহিলা হয়ে গৌরবের সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

হিলারি ক্লিনটন তৃণমূল রাজনীতি করেই আসেননি, সাবেক ফার্স্ট লেডিই ছিলেই না, ডাকসাইটে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। অথচ তাকে পরাজিত করে বির্তক আর আলোচনার ঝড় তুলে আসা ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই  নির্বাচিত করেছে যিনি হাইসেন হাওয়ারের পর সেই অরাজনৈতিক ব্যক্তি যিনি হোয়াইট হাউজের প্রবেশের গণরায় পেলেন।

সূত্র: পূর্ব-পশ্চিম বিডি.নিউজ

Share.

Comments are closed.